***নব গঠিত ২০২৩-২৪ কার্যকরী পর্ষদের সকলকে অভিনন্দন*** নতুন সদস্য ভর্তি চলছে... চলে আসুন মঙ্গলবার লিচু তলায়***

Tuesday, November 10, 2020

বিতর্ক ভাবনা - মো ঃ আখতারুজ্জামান

প্রত্যেক মানুষের মাঝে দু’টি পক্ষ আছে। একটি ভাল ও অপরটি মন্দ । ভাল হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক এবং মন্দ অসত্য ও অন্যায়ের প্রতিফলন। আমাদের সামাজিক জীবনে এ দু’টি বস্তই বিরাজ মান এবং আখেরাতও এর প্রতিদান ভোগ করতে হবে।

ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ, রাষ্ট্র , আ লিক ও আর্šÍজাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সর্বত্র বিদ্যমান । বিতর্ক একটি দ্বান্দিক রূপ তবে শৈল্পিক বটে। কারণ বিতর্কের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের সুন্দর রূপ ফুটে উঠে এবং অসত্য হয় মলিন। তাই বিতর্ক ভাবনা জনে-জনে, এ কথাটি চিরন্তন সত্য। মানুষ সৃষ্টির পূর্বে মহান আল্লাহ তায়ালা ও ইবলীসের মধ্যে মানুষ সৃষ্টি  নিয়ে দ্বান্দিক রূপ প্রকাশ পায় । মহান সৃষ্টিকর্তা ইবলীসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বে তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সত্য-ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। তবে ইবলীসও বসে নেই, মানুষের রক্ত কনায় মিশে তাকে অসত্য-অন্যায় ও বিশৃঙ্খলার প্রোলভন দেখায়। ক্ষনিক এবং স্থায়ী জীবনে সাময়িক স্বস্থি ও স্থায়ী  শান্তির মধ্যে দ্ব›দ্ব বা বিতর্ক ব্যাপক ও সুদুর প্রসারী। যুগে যুগে নবী রাসুল (সাঃ) ও তৎকালীন শাসক বর্গ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মতাদর্শ নিয়ে অনেক বিতর্কের জন্ম হয়েছিল। কালের বিবর্তনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমস্ত বিতর্ক সমাপ্তি হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় জীবনে নানা বিষয়ে দ্বান্দিকতা পরিলক্ষিত হয়। সমাজে সুদ, ঘুষ, দুনীতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, যৌতুকপ্রথা, মাদক দ্রব্য-চোরাচালান, নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার । সমাজের কলুষিত রূপ এগুলোর প্রতিফলন। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিতর্কের ভুমিকা অবশ্যাম্ভাবী। বিতর্ক মানুষকে সচেতন ও জাগ্রত করে তোলে। পরিশিলিত, পরিমার্জিত  বাচন ভঙ্গি যৌক্তক দাবীকে সমুন্নত রাখতেই বিতর্কের আয়োজন। সকল মিডিয়া , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংসদ, আঞ্চলিক ও বিশ্ব ফোরামে বিতর্কের যাত্রা অনিবার্য । বিতর্কের যাত্রা সর্বক্ষেত্রে বজায় রাখতে তরুণ সমাজের ভুমিকা অপরিসীম। সর্বস্তরে বিতর্কের চর্চা বা অনুশীলন সুন্দর মানস গড়ার ভিত রচনা করতে পারে।

বিতর্ক মানে জাগ্রত বিবেক। এর দু’টি শাখা আছে বুদ্ধি ও জ্ঞান। জ্ঞান দ্বারা পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয়। আবার কেউ বুদ্ধি বলে অবচেতন, অকল্যাণ, অপসংস্কৃতি ও নির্বুদ্ধিতার পথ অবলম্বন করে। তবে নিশ্চয় বুদ্ধি ও জ্ঞানের দ্ব›েদ্ব সুন্দরকে বিকশিত করতে বিতর্কের প্রয়োজন ।  জাগ্রত বিবেকের অপর নাম বিতর্ক। বিশেষ যে তর্ক তাকেই বিতর্ক বলে। বৈষম্য, ব্যবধান, শোষণ, নির্যাতন এ শব্দ গুলোর বিপরীতে একমাত্র যৌক্তক দাবীই সোচ্চার । বিতর্ক কোন বস্তুর রূপদান বা নতুন কিছু প্রতিষ্ঠিত করে না  তবে কোন অমীমাংসিত বিষয়ে সিন্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে বিতর্কই একমাত্র নিয়ামক। অনেক জানা-অজানা, তথ্য, তত্¦-উপাত্ত, ডাটা, দিক-নির্দেশনা, গুনীজনের অভিমত, ঐতিহাসিক পটভুমি, প্রতিকার ও সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় বিতর্কের মাধ্যমে ফুটে উঠে। বিতর্ক চর্চা মানব মনের দর্পনে সত্য ও সুন্দরের প্রতিফলন ঘটিয়ে আলোকিত মানুষ হবার পথ দেখায় বলে আমার  দৃঢ় বিশ্বাস।

বিতর্ক কোন দ্ব›দ্ব বা যুদ্ধের অংশ বিশেষ নয় এবং কোন পক্ষপাতভুক্ত হয়ে অন্ধ সমর্থন বা পৃষ্ঠপোষকতা নয়। বরং জ্ঞান-চক্ষুর আলোকে বিচার বিশ্লেষণ করার একটি শৈল্পিক প্রক্রিয়া। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিতর্ক একটি অনুঘটক। জ্ঞান-গর্ভ সম্বলিত যুক্তিভিত্তিক সমাজ ও জাতি সর্বদাই সর্বজন নন্দিত এবং উন্নতির স্বর্ণ চুড়ায় উপনীত হতে সক্ষম। তাই বিতর্ক ভাবনা প্রত্যেকের অনুভুতি ও উপলব্ধিতে থাকা আবশ্যক। দু’য়ের মধ্যে,  দ’ুটি দলের মধ্যে একটি মতাদর্শের সাথে অন্য একটি মতাদর্শের মধ্যে দ্বা›িদ্বকতা থাকতে পারে । তবে শৈল্পিক প্রক্রিয়া বা যুক্তি তর্কের মাধ্যমে নিরসন হোক এটাই একজন বিতার্কিকের চাওয়া। তবে খেয়ালের বশবতীঃ হয়ে এক তরফাভাবে পেশীশক্তি বা সমরাস্ত্রের প্রভাবে আগ্রাসন মূলক কর্মকান্ড ইতিহাসে কলংকজনক অধ্যায় সূচনা করে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পীড়াদায়ক। একজন বিতার্কিক তাঁর সুন্দর মননশীলতা দিয়ে যেমন নিজেকে পরিপাটি করতে পারে তেমনি অন্যকেও মর্যাদাবান ও সম্মানের আসনে অলংকৃত করতে পারে এবং মানব জাতিকে দিতে পারে সত্য আলোর দিশা। বিশ^বাসীর নিকট একজন বিতার্কিক একজন আদর্শ পুরুষ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে পারে। সে প্রত্যাশাই করি বিতর্ক পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে। বিতর্ক বেঁচে থাক সবার মাঝে সকল হৃদয়ে সর্বকালে যুগ-যুগান্তর ধরে ।

বর্তমান বিশে^ ধর্মান্ধতা , উগ্রবাদিতা, সাম্প্রদায়িকতার অন্তরালে নিষ্ঠুরতা, নিমর্মতা, এবং একটি বিশেষ জাতি বা শ্রেণি নিয়ে একটি স্বতন্ত্র দেশ গড়ার তৎপরতা যা লজ্জা ও কলংকজনক ইতিহাসের দৃষ্টান্ত। আকাশ, সংস্কৃতি ও গণ মাধ্যম গুলোতে যা দেখি তা প্রতিবেশী রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁদের প্রতি যে নির্যাতন, নিপীড়ন, খুন, ধর্ষণ, বিতাড়িত করণ, ধ্বংস-যজ্ঞ , বর্বরতা, বাস্তুভিটা নিশ্চিহ্ন করণ, ইতিহাসের সকল নারকীয় তান্ডবকে হার মানিয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্বসহ নিজ মাতৃভূমিতে বেঁচে থাকার অধিকার হারানোর আতংকে লাখো মানুষের অনিশ্চিত জীবন যাপন যেন বিশেষ মহলের উপভোগ্য বিষয়। অধিকার হরণ ও মানবাধিকার সংরক্ষণে বিশ^ জনমতের ভিত্তিতে বহু পক্ষের সমন্বয়ে বিতর্কের মাধ্যমে বিতাড়িত জনগোষ্ঠির প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্ব লাভের দীর্ঘ প্রত্যাশা বাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু সমাধানে সফলতা বয়ে আনতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ আতিথিয়তা , সহনশীলতা, মানবতার সেবায় বিশ^কে চমকে দিয়ে প্রমাণ করেছে মানবতার জননী ছোট্ট এই দেশ “বাংলাদেশ”! বাস্তবধর্মী তত্ত¡-উপাত্ত যুক্তি নির্ভর উপস্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় থেকে আর্šÍজাতিক অঙ্গনে মানবতার নেতৃত্বে অটল লাল সবুজের “বাংলাদেশ”! শত প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে সত্য-সন্ধ্যানীরূপে দেশের ভাবমুর্তিকে উচ্চে তুলে ধরে সুনাম কুঁড়িয়েছে যা ঐতিহ্যগত এবং প্রসংশনীয় । তাই বিতর্কের বিষয় হওয়া উচিত “মিয়ানমারের নাগরিকগণ বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে বিশ^ সম্প্রদায়ের করণীয় কি?” সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তি, তর্ক, তথ্য ও তত্ত¦-উপাত্তে¡র প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বাড়তি চাপ, জীব-বৈচিত্র্য ও পরিবেশ বিপর্যয়, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা, স্থানীয় অস্থিতিশীলতা, আ লিক ও আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমুর্তি নিয়ে শংকা সৃষ্টি হয়েছে। এ সবকিছুই পুরোজাতিকে ভাবিয়ে তোলে। দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষের সমন্বয় সাধন ও প্রচেষ্টাই মানবতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বিশিষ্ট জনরা মনে করেন  “প্রত্যাবাসন ব্যতিত আবাসন ধ্বংস করে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা নিংসন্দেহে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার সামীল” । গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে বিতর্কের ভুমিকা মূখ্য অন্যথায় গণতন্ত্র প্রহসনমূলক ও ষড়যন্ত্রের ফাঁদে নিমজ্জিত হবে। 

 প্রতিদ্ব›িদ্বদের মধ্যে পারমানবিক শক্তির প্রতিযোগীতায় বিশ^ মানবতা আজ জরাগ্রস্ত। বিশ^ বিবেক মুখ থুবড়ে পড়েছে। এক শ্রেণীর শাসক গোষ্ঠির নিকট আর্ন্তজাতিক সংস্থা ও বিশ^ মানবতা অসহায় ও দুর্বলতার শিকার হয়েছে। নাগরিক পুঞ্জি তৈরীর মাধ্যমে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়াবহতা গোটা বিশ^কে প্রকম্পিত করেছে। নিজ মাতৃ-ভুমিতে নিজস্ব পতাকাতলে বাঁচার অধিকার থেকে বি ত হয়ে মানবতার কবর রচিত হয়েছে। একটি স্বাধীন চেতনার সংস্কৃতি পর্যদস্তÍৃ হয়ে মানবাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকারের বিপরীতে সমরাস্ত্রের মাধ্যমে আধিপত্য ও কতৃত্ব বিস্তারের যৌক্তিকতার অবকাশ নেই । তাই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ^বাসীর নিকট বির্তকের জন্ম দিয়েছে,মানব কল্যাণে যৌক্তিকতার দাবীতে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতে পারে।  মানব মূল্যবোধ রক্ষার্থে সচেতন মহলে বিতর্কের ঝড় বইতে পারে। বিতর্ক ভাবনা মানব অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র পথ খুঁজে দিতে পারে।

পুুঁজিবাদী নীতির কারণে গোটা বিশ^-সমাজ দরিদ্রতা ও বিলাসিতায় লিপ্ত এ দু’শ্রেনিতে বিভক্ত হয়েছে। ফলে সমবন্টন বিলুপ্ত এবং অসম বন্টন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । এ দুই শ্রেণির মধ্যে বিতর্ক স্পষ্ট। নৈতিক অবক্ষয়, উদাসীনতা, পরশ্রীকাতরতা, অবমূল্যায়ন নিরসনে বিতর্ক ভাবনা জনে জনে। বৈজ্ঞানিক আবিস্কার কল্যাণমূলক এবং উন্মাদনার ফল ধ্বংসাত্বক। বিজ্ঞান হচ্ছে বিশেষ জ্ঞান যা বাস্তবতার চেতনা, যৌক্তিক পরীক্ষা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ধারাবাহিক গবেষণা ও ইতিবাচক সফলতা এবং মানব কল্যাণে ব্যবহৃত। পক্ষান্তরে উন্মাদনা কোন সুনিদিষ্ট কারণ ও যৌক্তিকতা , সত্য সুন্দরের, তোয়াক্কা না করে আতœকেন্দ্রিক ও নির্বিচারে লিপ্ত । ফলে দ্ব›দ্ব বা বিতর্ক ফুসে উঠে। মানব কল্যাণে গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ ও উত্তরণ প্রত্যেক ব্যক্তির নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব।

জেরুজালেম যা একটি সমন্বিত তীর্থ স্থান সেখানে কোন বিশেষ মহলের প্রভাব বিস্তার বিশ^ সমাজকে বিভক্ত ও বিতর্কের মহাসড়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশে^ সভ্যতার আকাশে বর্বরতা নামক উল্কাপিন্ডের অবাধ বিচরণ যত্রতত্র পরিলক্ষিত হয়। স্বার্থের দ্বন্দে¦ আকাশ সংস্কৃতির সুবাদে বায়ু তরঙ্গের সাহায্যে ভেসে আসে অদৃশ্য এক অমোঘ নির্দেশ এক ভূ-খন্ড থেকে আরেক ভূ-খন্ডে বা একই ভূ-খন্ডের অপর অংশে উন্মদনার নগ্ন নৃত্যে নিমিষে পরিণত হয় মৃত্যুপুরী এবং বিভিষীকাময় ধ্বংস স্তুপ। পুরো বিশ^ নির্বাক প্রতিবাদের ভাষা স্তব্ধ। তবে একমাত্র বিতর্কই দিতে পারে এর সঠিক সমাধান। বিতর্কের মাধ্যমে গড়ে উঠুক ভাতৃত্ববোধ, বিশ^ঐক্য সকল ভেদাভেদ ভুলে মানবতা ও মুল্যবোধের চেতনায় বিতর্ক হোক উদ্দীপ্ত । তাই বলতে হয় -

“ বিবেকের ভিত নড়বড়ে, বিতর্কের দ্বার রুদ্ধ।

যৌক্তিকতা গণ-কবরে, বিশ^বাসী আকাশ সংস্কৃতিতে মত্ত।

সবলের প্রভাব দুর্বলের উপর, সুজন মরে নিপীড়নে,

যত বিতার্কিক হও আগুয়ান , নির্ভীক চিত্তে জয়-ধ্বনি কর সত্যের”

 তাই আসুন, বিতর্ক হোক ঘরে-ঘরে, ঘরে-বাইরে, দেশ-দেশান্তরে এবং আ লিক ও আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে সকল সমস্যা নিরসনে, জয় হোক সত্য-ন্যায় ও সুন্দরের এবং বিলুপ্ত হোক অসত্য ও অন্যায়। বিতর্ক ভাবনা জনে-জনে এ প্রত্যাশা নিয়ে বলতে পারি বিতর্কের দ্ব›েদ্ব বিকশিত হোক সুন্দর।

লেখক: মো: আখতারুজ্জামান (প্রভাষক ইংরেজি), কাজী পাড়া আদর্শ মহিলা বি এম কলেজ, তারাগঞ্জ, রংপুর।

 

No comments:

Post a Comment